আইন ও বিধি

বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৯ (২১/২/২০১৯)

যেহেতু বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সহযোগী কার্যক্রমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং এই রূপান্তর ক্রমে শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে The State Medical Faculty of Bangladesh এর রুপ একটি বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড গঠন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;  

 

সেইহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল

অধ্যায়-

প্রারম্ভিক

 

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন(১) এই আইন বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৯  নামে অভিহিত হইবে;

(২)   ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে; এবং

(৩)  সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখ হইতে ইহা     কার্যকর হইবে।

 

২। সংজ্ঞা।—বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে —

(ক) ‘অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল)’ অর্থ কোনো ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক-প্রধান;

(খ) ‘অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল’ অর্থ ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, ফার্মাসিস্ট এবং নার্স ব্যতীত অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মী যাহারা রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধে সহায়তা করিবে এবং সীমিত আকারে চিকিৎসা প্রদান করিবে;

(গ) ‘ইনস্টিটিউট’ অর্থ বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট, স্কুল অথবা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বাস্থ্য শিক্ষা কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ;

(ঘ) ‘চেয়ারম্যান’ অর্থ বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড-এর চেয়ারম্যান;

(ঙ) ‘নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ’ অর্থ স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়;

(চ) ‘পরীক্ষা’ অর্থ বোর্ড কর্তৃক প্রণীত কারিকুলাম-অনুযায়ী পরিচালিত পরীক্ষা;

(ছ)  ‘প্রজ্ঞাপন’ অর্থ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি;

(জ) ‘প্রবিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রণীত প্রবিধান;

(ঝ) ‘অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা’ অর্থ স্নাতক পর্যায়ের নিম্নে সহযোগী মেডিক্যাল শিক্ষাসম্পর্কিত ও এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোর্সসমূহ;

(ঞ) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি;

 

(ট) ‘বোর্ড’ অর্থ এই আইনের ৩ ধারার অধীন প্রণীত বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড;

(ঠ) ‘শিক্ষার্থী’ অর্থ ইনস্টিটিউটের  নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে নিবন্ধিত কোনো শিক্ষার্থী; এবং

(ড) ‘সচিব’ অর্থ বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড-এর সচিব।

  

অধ্যায়-২

   বোর্ড

 

৩। বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা।—(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, সরকার যথাশীঘ্র সম্ভব সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ধারা ৪-এ উল্লিখিত সদস্য সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড’ নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করিবে; এবং

(২) বোর্ড একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে। বোর্ড স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও উক্ত নামে মামলা দায়ের করা যাইবে।

(৩) বোর্ডের  কার্যালয়।-  বোর্ডের  প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং বোর্ড প্রয়োজনবোধে,

             সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে  কোনো স্থানে উহার আনচোরিক ও শাখা কার্যালয়

               স্থাপন করিতে পারিবে।       

৪। বোর্ড গঠননিম্নরূপ  ১৩ (তেরো) জন সদস্য সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে

     (১) চেয়ারম্যান, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চেয়ারম্যান নিযুক্ত হইবেন;

(২) যুগ্মসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (পদাধিকারবলে);     

(৩) কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত যুগ্মসচিবের নিম্নে নহেন এইরূপ      

     পর্যায়ের  ১ (এক) জন;

      (৪) পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (পদাধিকারবলে);

     (৫) ডিন চিকিৎসা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (পদাধিকারবলে);

     (৬) সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ১ (এক) জন অধ্যক্ষ (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

     (৭) রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমঅ্যান্ডডিসি), (পদাধিকারবলে);

(৮) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত পরিচালকের নিম্নে নহেন এইরূপ পর্যায়ের  ১ (এক)  জন;

(৯) সরকারি  ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের  ১  (এক) জন অধ্যক্ষ (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

     (১০) সরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের ১  (এক) জন অধ্যক্ষ (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

      (১১) বেসরকারি  ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের  ১  (এক) জন অধ্যক্ষ (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

     (১২) বেসরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের ১ (এক) জন অধ্যক্ষ (সরকার কর্তৃক মনোনীত); এবং

(১৩) সচিব, বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড, যিনি বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

 

৫। বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলী।-এই আইনের বিধানাবলিসাপেক্ষে বোর্ড উহার অধিক্ষেত্রের মধ্যে নিম্নলিখিত

    কার্যাবলী সম্পন্ন করিবে:

     (১) সকল অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, তদারকি, সমন্বয়,   

          নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন ;

    (২) বিভিন্ন কোর্সের পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান;

    (৩) বোর্ডের কর্মকর্তাদের দ্বারা গঠিত পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো ইনস্টিটিউটের

          অধিভুক্তি, অধিভুক্তি নবায়ন, কোর্স অনুমোদন, স্বীকৃতি, মঞ্জুর অথবা স্থগিত অথবা প্রত্যাহার;

    (৪) ইনস্টিটিউটে শির্ক্ষার্থীদের ভর্তির শর্তাবলি এবং ইনস্টিটিউট হইতে শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন সংক্রান্ত  

         বিধানাবলি নির্ধারণ;

    (৫) ইনস্টিটিউট পরিচালনা পদ্ধতি ও রীতিনীতি নির্ধারণ;

    (৬) বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন যে-কোনো ইনস্টিটিউটে উহার প্রতিনিধিদের দ্বারা অথবা তৎকর্তৃক উপযুক্ত    

         কোনো  ব্যক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনে পরিদর্শন;

    (৭) কোর্স শিডিউলের সমাপনান্তে পরীক্ষা গ্রহণ, পরিচালনা, প্রয়োজনে স্থগিত অথবা প্রত্যাহার;

    (৮) বোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ;

    (৯) বোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কৃতকার্যদের সার্টিফিকেট মঞ্জুর ও প্রদান এবং যৌক্তিক প্রয়োজনে প্রদত্ত  

         সার্টিফিকেট প্রত্যাহার;

   (১০) ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তি;

   (১১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষে বোর্ডের জনবল কাঠামো এবং

         সরঞ্জামাদির তালিকা, অর্গানোগ্রাম (TO & E) নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট নিয়োগ;

   (১২) উক্ত বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফি, চাহিদা নির্ধারণ ও গ্রহণ;

   (১৩) কোর্স পরিচালনাকারী সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পাদন;

    (১৪) ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সফলতার ভিত্তিতে পুরস্কার, বৃত্তি, মেডেল ইত্যাদি প্রদান;

    (১৫) বোর্ডের কার্যাবলি সম্পাদনকল্পে উহার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা;

    (১৬) মন্ত্রণালয়ের সহিত কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ রক্ষা;

    (১৭) সময়ে সময়ে বোর্ডের উপর আরোপিত ন্যায়সংগত যে-কোনো কার্যক্রম পরিচালনা;

    (১৮) কোনো কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বিশেষ  জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজনে, পরামর্শক নিয়োগ;এবং

    (১৯) বোর্ডের কর্মচারী ব্যবস্থাপনা ও শৃংখলাজনিত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

৬। বোর্ড পরিচালনা-  (১) প্রতি ক্যালেন্ডার বৎসরে ন্যূনতম ৪ (চার) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে;

                           (২) বোর্ডের বাজেট সভা প্রতিবৎসর ৩১ মার্চ অথবা তৎপূর্বে অনুষ্ঠিত হইবে;

                           (৩) বোর্ড-সভার  কোরামের জন্য ৫০% সদস্যের উপস্থিতি থাকিতে হইবে; এবং

                            (৪) চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে বোর্ডের ২ নং সদস্য সভাপতি হিসাবে বোর্ডের সভা       

                                 পরিচালনা  করিবেন। 

 

৭। বোর্ডের কর্মচারী-(১) চেয়ারম্যান;

                           (২) সচিব;

                           (৩) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক; এবং

                           (৪) বোর্ড কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্যান্য কর্মচারী।

 

৮। বোর্ডের  কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি।-(১)  চেয়ারম্যান ব্যতীত বোর্ডের কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমও চাকুরীর

                                                      শর্তাবলী  প্রবিধান-অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

 

৯। সচিব।-বোর্ডের  একজন সচিব  থাকিবেন, যিনি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সভার তারিখ,সময় এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ, সভার কার্যবিবরণী প্রস্তুত, বোডূ কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং বোর্ড কতৃঋক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদন করিবেন।

 

১০। সভা পরিচালনা করা-চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তিনি ভোট প্রদানের অধিকারী হইবেন। কোনো বিষয়ে ভোট সমতার ক্ষেত্রে তিনি সিদ্ধান্ত নির্ধারণী দ্বিতীয় ভোট প্রদান করিতে পারিবেন :

 

তবে শর্ত থাকে, বোর্ডের নিকট উপস্থাপিত কোনো বিষয়ে কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকিলে তিনি ভোট প্রদানে বিরত থাকিবেন এবং কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।

 

১১। বোর্ডের সহায়ক কমিটিসমূহ-

     (১) বোর্ডকে সহায়তা করিবার জন্য নিম্নরূপ কমিটিসমূহ গঠন করা যাইবে-                                               

         (ক)  অ্যাকাডেমিক কমিটি;

         (খ) প্রশাসনিক ও অর্থ কমিটি;

         (গ) পরিদর্শণ কমিটি;

         (ঘ) শৃংখলা কমিটি; এবং

         (গ) সময়ে সময়ে প্রয়োজনে গঠিত অন্যান্য কমিটি।

 

    (২) অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও ফাইন্যান্স, পরিদর্শণ ও শৃংখলা  কমিটির মেয়াদ হইবে ৩ (তিন) বৎসর,

         তবে নূতন কমিটি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পুরাতন কমিটি দায়িত্ব পালন করিবে;

    (৩) উপধারা ১-এ বর্ণিত কমিটিসমূহের গঠন ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে;

    (৪) কমিটিকে সহায়তা করিবার জন্য প্রয়োজনে উপকমিটি গঠন করা যাইবে; এবং

    (৫) কোনো কমিটির কার্যক্রম নিয়া কোনো যৌক্তিক  আপত্তি  উথ্থাপিত হইলে বোর্ড উক্ত কমিটি পুনর্গঠন  

          করিতে পারিবেন।

১৩।  ইনস্টিটিউটের অধিভুক্তি-

     (১) ইনস্টিটিউটের অধিভুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে, ধারা ৫-এর উপধারা (৩) (খ) অনুযায়ী গঠিত কমিটির

          পেশকৃত পরিদর্শন প্রতিবেদনে যদি অধিভুক্তির শর্তাবলি পূরণ হইয়াছে বলিয়া মনে হয়, তাহা হইলে    

          অধিভুক্তি করা যাইবে;

    (২) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত ও গঠিত স্বাস্থ্যশিক্ষা কোর্স পরিচালনাকারী সকল  

         ইনস্টিটিউট এই আইন কার্যকর হইবার এক বৎসরের মধ্যে ডিপ্লোমা মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট  অধিভুক্তি

         ও তালিকাভুক্ত হইবার জন্য বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে হইবে; এবং

    (৩) ইতোপূর্বে অধিভুক্ত ইনস্টিটিউটের পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে  

         অধিভুক্তির শর্তসমূহ পালনে ইনস্টিটিউট ব্যর্থ হইয়াছে, তাহা হইলে সেইক্ষেত্রে বোর্ড উক্ত

         ইনস্টিটিউটের অধিভুক্তি বাতিল অথবা স্থগিত করিতে পারিবে।

 

১৪। চেয়ারম্যান নিয়োগ-

      (১) বিধিমালায় বর্ণিত দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগের লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট সময় ও মেয়াদের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত

      (২) বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে চিকিৎসক হিসাবে নিবন্ধিত এবং সরকারি

           মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অথবা নিয়মিত অধ্যাপক হিসাবে এবং প্রশাসনিক পদে ন্যূনতম ২ (দুই)      

           বৎসর কার্য করিবার অভিজ্ঞতা অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিচালক হিসাবে ন্যূনতম ২ (দু্ই)

          বৎসরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসহ ন্যূনতম ২০ (বিশ) বৎসর চাকুরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে

          চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করা যাইবে।

     (৩) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারনে চেয়ারম্যান তাহার

           দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত  চেয়ারম্যান তাহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত

          কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনের সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত

          কোনো ব্যক্তি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করিবেন

১৫। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব।–

      (১) চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-

            (ক) বোর্ডের কার্যাবলী ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন;

            (খ) বোর্ডের হিসাব সংরক্ষণ, হিসাব বিবরণী প্রণয়ন ও হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন; এবং         

             (গ) সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।

       (২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, চেয়ারম্যান জরুরি প্রয়োজেন, যে  কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিতে

            পারিবেন: তবে শর্ত থাকে, এইরূপে গৃহীত কার্যক্রম অনুমোদনের  জন্য বোর্ডের পরবর্তী সভায়

            উপস্থাপন করিতে হইবে।

      (৩) চেয়ারম্যান, বোর্ডের  কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, প্রয়োজনে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে

           অস্থায়ীভাবে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করিতে পারিবেন।

 ১৬। বোর্ডের সদস্যদের অযোগ্যতা-

      (১) বোর্ডে কোনো সদস্য মনোনীত অথবা নিযুক্ত হইতে পারিবেন না, যদি —

          (ক) দুর্নীতি অথবা শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত অপরাধের দায়ে বিভাগীয় মামলা অথবা আদালতে বিচার

               চলমান থাকে; অথবা

          (খ) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ হিসাবে ঘোষিত হন; অথবা

          (গ) দেউলিয়া হিসাবে ঘোষিত হন; অথবা

          (ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন; অথবা

          (ঙ) ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

    (২) (ক) বোর্ডের কোনো সদস্য তাঁহার মনোনয়ন অথবা নিযুক্তির পর উপধারা (১) (খ-ঙ)-এ  বর্ণিত কোনো

               কারণে অনুপযুক্ত হইলে তাঁহার সদস্যপদ বাতিল হইয়া যাইবে; এবং

         (খ) বোর্ডের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কার্যক্রমে জড়িত রহিয়াছে মর্মে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক

              তদন্তে প্রমাণিত হইলে তাঁহার সদস্যপদ বাতিল হইয়া যাইবে।

 

১৭। বোর্ডের নিযুক্ত অথবা মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ

(১) এই আইনের বিধানাবলি প্রতিপালনসাপেক্ষে বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং যে-কোনো মনোনীত সদস্য নিযুক্তির প্রজ্ঞাপনের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং এইরূপ মেয়াদ পরবর্তী মনোনয়ন অথবা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকিবে :

 

        তবে শর্ত থাকে, এই সময় সর্বোচ্চ ০৬ (ছয়) মাসের অধিক হইবে না।

 

(২) চেয়ারম্যান সরকার বরাবর পত্রযোগে তাঁহার পদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন;

 (৩) সরকার কর্তৃক মনোনীত যে-কোনো সদস্য চেয়ারম্যান বরাবরে তাঁহার সদস্যপদ হইতে

      পদত্যাগপত্র পেশ করিতে পারিবেন :

 

    তবে শর্ত থাকে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।

 

১৮। সাময়িক শূন্যতাপূরণ—পদত্যাগ, মৃত্যু অথবা অন্য যে-কোনো কারণে বোর্ডের কোনো সদস্যের পদ শূন্য হইলে, উক্ত শূন্যপদে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নূতন সদস্য মনোনীত অথবা নিযুক্ত করা হইবে।

 

অধ্যায়-৩

অর্থ

১৯। বাজেট—বোর্ড প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থবৎসরের বাজেটবিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উক্ত অর্থবৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ করিবে।

 

২০। বাৎসরিক প্রতিবেদন-

     (১) বোর্ড প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৩০ সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাববিবরণী

          মন্তব্যসহ (যদি থাকে) এবং ঐ আর্থিক বৎসরের কর্মকাণ্ডের উপর একটি বাৎসরিক প্রতিবেদন

          সরকারের নিকট পেশ করিবে; এবং

   (২) সরকার প্রয়োজনমতো বোর্ডের নিকট হইতে যে-কোনো সময় বোর্ডের যে-কোনো বিষয়ের উপর

        বিবরণী, রিটার্ন ও প্রতিবেদন আহ্বান করিতে পারিবে এবং বোর্ড তাহা সরকারের নিকট পেশ করিবে।

 

২১। বোর্ডের তহবিল—(১) ‘বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড তহবিল’ নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে এবং উহাতে নিম্নরূপ অর্থ জমা হইবে—

(ক) THE STATE MEDICAL  FACULTY   হইতে  উত্তরাধিকারী হিসাবে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ;

(খ) এই আইনের অধীন ধার্যকৃত যাবতীয় ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;

(গ) বোর্ড কর্তৃক অর্জিত সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত যে-কোনো পরিমাণ আয়;

(ঘ) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঙ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, অন্য  কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; এবং

(চ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কোনো বিদেশি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।

  (২) বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড-এর চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে এই

       তহবিল পরিচালিত হইবে।

 

২২। বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড তহবিল ব্যবহার-

       (১) বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড তহবিল  হইতে নিম্নরূপ খাতে অর্থ ব্যয় করা যাইবে-

           (ক) বোর্ডের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধ;

           (খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পুস্তিকা, ফরম, দলিলদস্তাবেজ ইত্যাদি ক্রয় ও মুদ্রণসংক্রান্ত

                 যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ;

           (গ) বোর্ডের পরীক্ষা গ্রহণ অতঃপর পরীক্ষার ফল প্রকাশের সকল ব্যয় নির্বাহ;

           (ঘ) মূলধনজাতীয় ব্যয় নির্বাহ;

           (ঙ) এই আইনের বিধানানুযায়ী ও এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত যাবতীয়

                ব্যয় নির্বাহ;

           (চ) সকল প্রকার সম্মানি প্রদান; এবং

           (ছ) আনুষঙ্গিক ব্যয়।

 (২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নহে এইরূপ কোনো খরচ বোর্ডের তহবিল হইতে নির্বাহ করিতে পারিবে না।

 

২৩। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা—(১) বোর্ড নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিকবিবরণী প্রস্তুত করিবে;

 

(২) বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতিবৎসর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং

     নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন; এবং

(৩) প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্তির ০২ (দুই) মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাবপ্রতিবেদন বোর্ডের নিকট

     উপস্থাপন করিতে হইবে।

 

২৪। অননুমোদিত ব্যয়-

      (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিধিবহির্ভূত ব্যয় সংঘটিত হইলে

           তাহার দায় অনুমোদনকারী এবং ব্যয় নির্বাহকারী ব্যক্তির উপর বর্তাইবে;

      (২) উপধারা (১)-এ উল্লিখিত প্রতিবেদন বোর্ডের নিকট উপস্থাপনের ১৪ (চৌদ্দ) দিবসের মধ্যে আপত্তিকৃত

           ব্যয় আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়ে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে; এবং

     (৩) আপত্তিকৃত ব্যয়ের বিষয়ে জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হইলে আপত্তিকৃত অর্থ আদায়যোগ্য

          হইবে।

 

২৫। বোর্ড-সদস্যগণের আর্থিক সুবিধা—এই আইনের অধীন বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ বাবদ সদস্যদের সম্মানি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে :

 

তবে শর্ত থাকে, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সম্মানি ব্যতিরেকে কোনো সদস্য বোর্ডের তহবিল হইতে অতিরিক্ত কোনো ফি অথবা পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন না।

 

 অধ্যায়-৪

        বিবিধ

 

২৬। বৈধতা—কেবল কোনো পদের শূন্যতা কিংবা বোর্ড গঠনে কোনো প্রকার ত্রুটির কারণে বোর্ডের কোনো   

কার্য অথবা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

 

২৭। ভবিষ্যতহবিল—এই আইনের অধীন বোর্ডের কর্মচারীদের ভবিষ্যতহবিল সময়ে সময়ে প্রণীত প্রবিধান দ্বারা পরিচালিত হইবে।

 

২৮। অবসর গ্রহণের বয়স—এই আইনের অধীন বোর্ডের স্থায়ী কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়স হইবে ৬০ (ষাট) বৎসর।

 

২৯। পেনশন ও আনুতোষিক-

      (১) বোর্ডের কোনো কর্মচারী অবসর গ্রহণ কিংবা  চাকুরি হইতে ইস্তফা প্রদান কিংবা চাকুরি পূর্তির পূর্বে

           মৃত্যু বা চাকুরিকালীন দুর্ঘটনা অথবা অসুস্থতার কারণে অক্ষম হইলে, প্রতিবৎসর চাকুরির জন্য ২.৫

           (আড়াই) মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ আনুতোষিক প্রাপ্য হইবেন; এবং

      (২) উপধারা (১)-এর অধীন আনুতোষিকের শর্ত এই উদ্দেশ্যে প্রণীত প্রবিধান দ্বারা পরিচালিত হইবে।

 

৩০। বোর্ডের জবাবদিহিতা।–

       (১) বোর্ড উহার যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য সরকারের নিকট দায়ী থাকিবে।

       (২) বোর্ড সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে পরিদর্শন বা তদন্ত করিবার ক্ষমতা সরকারের থাকিবে।

      (৩) উপ-ধারা (২)এর অধীন অনুষ্ঠিত পরিদর্শন বা তদন্ত প্রতিবেদনের  পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বোর্ডকে

           প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে কোনো  নির্দেশনা প্রদান করা হইলে বোর্ড

            উহা প্রতিপালন করিবে।

      (৪) সরকার, জনস্বার্থে, লিখিত আদেশ দ্বারা বোর্ডের কোনো কার্যক্রম বা কমিটি বাতিল করিতে পারিবে:

            তবে  শর্ত থাকে, এইরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে সরকার, কেন উক্ত আদেশ প্রদান করা হইবে না, সেই  

           মর্মে কারণ দর্শাইবার জন্য চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানাইবেন।

               (৫) বোর্ডের কোনো সদস্যের আচরণ রাষ্ট্র বোর্ডের স্বার্থের পরিপন্থি বিবেচিত হইলে তদন্তসাপেক্ষে  

                      নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তাঁহাকে অপসারণ করিতে পারিবে :

 তবে শর্ত থাকে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বোর্ড অথবা কমিটির চেয়ারম্যানকে এইরূপ আদেশ কেন প্রদান করা হইবে না, এই মর্মে ব্যাখ্যা চাহিবেন।

 

৩১। বিধি প্রণয়ন—এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৩২। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা—এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন অথবা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৩৩। রহিতকরণ ও হেফাজত-

       (১) এই আইন প্রবর্তন হইবার সঙ্গে সঙ্গে দি স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ  সকল জনবল,

            সম্পদ, ইক্যুইপমেন্ট বোর্ডের সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হইবে;

       (২) এই আইন প্রবর্তন হইবার পূর্বে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন স্বাস্থ্যশিক্ষা পরিচালনাকারী

            প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের চলমান শিক্ষা কোর্সসমূহের কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

            হইতে সম্পন্ন হইবে :

      তবে শর্ত থাকে, আলোচ্য আইন জারির পরে এই বোর্ডর অধীনে কোর্সসমূহ পরিচালিত হইবে।

৩৪। ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ।–

      (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা

          পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে।

      (২) বাংলা ও ইংরেজি  পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

 

 

 

 

  সর্বশেষ সংশোধিত কপি

২২/০১/২০১৯ খ্রি:

বিল নং........................২০১৮

 

 

দেশে মেডিক্যাল/মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি করিবার উদ্দেশ্যে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে আইন প্রণয়নকল্পে আনীত

                                                বিল

যেহেতু দেশে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি করিবার উদ্দেশ্যে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেইহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন(১) এই আইন বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে; এবং

 (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞার্থবিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি  কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে নিম্নরূপ বুঝাইবে

(ক)   ‘অপরাধ’ অর্থ এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য যে-কোনো অপরাধ;

(খ)   ‘অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ অর্থ ধারা ১৯ অনুযায়ী গঠিত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল;

(গ)   ‘কমিটি’ অর্থ ধারা ৮-এর অধীন গঠিত মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ পরিদর্শন কমিটি বা অন্য যে কোনরূপ কমিটি;

(ঘ)   ‘কাউন্সিল’ অর্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল;

(ঙ)   ‘কলেজ’  অর্থ এমবিবিএস অথবা বিডিএস শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান;

(চ)   ‘ক্যাম্পাস’ অর্থ কোনো বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ক্যাম্পাস;

(ছ)   ‘গভর্নিং বডি’ অর্থ ধারা ১২ অনুযায়ী বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের গভর্নিং বডি;

(জ)   ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);

(ঝ)   ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(ঞ)  ‘‌‌বিশ্ববিদ্যালয়’ অর্থ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়; এবং

(ট)     ‘ডেন্টাল ইউনিট’

 

          বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন(১) এই আইনের অধীন সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বাংলাদেশের যে-কোনো স্থানে উপধারা ৩ এর বিধান সাপেক্ষে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা যাইবে;

 

          (২) বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রেজিস্টার্ড ট্রাস্ট অথবা ফাউন্ডেশন অথবা সোসাইটি-এর অধীনে স্থাপন করা যাইবে। তবে এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে  Company Act-এর অধীন স্থাপিত কলেজ অথবা কলেজসমূহ ১৫ ধারার শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে এই আইনের অধীনে স্থাপিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে;

                                                                  

(৩) উপধারা (১)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দেশের পরিবেশ, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ অথবা অন্য কোনো বিষয় বিবেচনাক্রমে, যদি সরকার কোনো স্থানে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অথবা বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ অথবা উহার                                                                    ১

ক্যাম্পাস স্থাপন করা যাইবে না মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করে, তাহা হইলে এইরূপ কোনো স্থানে কোনো মেডিক্যাল কলেজ অথবা ডেন্টাল কলেজ অথবা উহার ক্যাম্পাস স্থাপন করা যাইবে না;

 

          (৪) এই আইনের অধীন স্থাপিত প্রত্যেক মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজের স্থায়ী ধারাবাহিকতা এবং একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী পালন সাপেক্ষে  ইহার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং উপধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে হস্তান্তর করিবার অধিকার থাকিবে এবং উক্তরূপে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক এবং  বেসরকারি মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজের পক্ষে অথবা বিপক্ষে মামলা দায়ের অথবা পরিচালনা করা যাইবে;

 

(৫)এই আইনের অধীনে স্তাপিত প্রত্যেক   বেসরকারি মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের পূর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং  উক্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উহার পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হইবে।  ( নূতন)

 

          (৬) কোনো বেসরকারি মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজ এইরূপ কোনো নামে স্থাপন করা যাইবে না, যে নামে এই আইন অথবা অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো স্বীকৃত মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজ ইতঃপূর্বে স্থাপিত হইয়া উক্ত নামে বহাল রহিয়াছে অথবা যে নামে পূর্বে কোনো স্বীকৃত মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজ বহাল ছিল অথবা উক্ত নামের সহিত প্রস্তাবিত নামের সাদৃশ্য রহিয়াছে; এবং

          (৭) এই আইনের অধীন স্থাপিত প্রত্যেক বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হইবে।

 ৪ বেসরকারি মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের আবেদন(১) এই আইনের ধারা ৫ অথবা ক্ষেত্রমতে ধারা ৬-এ বর্ণিত শর্তাবলি পূরণসাপেক্ষে, এই আইনের অধীন মেডিক্যাল কলেজ অথবা ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে সরকারের নিকট আবেদন করিতে হইবে;

(২) উপধারা (১)-এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর সরকার, প্রস্তাবটি বিশদভাবে পরীক্ষানিরীক্ষাপূর্বক এই আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী গঠিত পরিদর্শনসংক্রান্ত কমিটির নিকট যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করিবে; এবং  

(৩) উপধারা (২) অনুযায়ী  কমিটির পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং এই আইনের অন্যান্য ধারার শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে আবেদন গ্রহণযোগ্য হইলে সরকার মেডিক্যাল অথবা ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদনের লক্ষ্যে ধারা ৭ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

          বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের শর্তাবলিএই আইনের অধীন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে নিম্নরূপ শর্তাবলি পূরণ?