নীতিমালা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
চিকিৎসা শিক্ষা-১ অধিশাখা
www.mohfw.gov.bd

স্মারক নং-৫৯.০০.০০০০.১৪০.১৯.২০৪.২০১৭-৪১৪                                                                                           তারিখঃ ৩০/১০/২০১৯ খ্রিঃ

 

বিষয়ঃ  মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০১৯।

 

১.০  সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তনঃ

১.১  এই নীতিমালা ‘মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০১৯’নামে অভিহিত হইবে।

 ১.২   বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমএন্ডডিসি) কর্তৃক প্রণীত ও অনুমোদিত এ নীতিমালা বাংলাদেশের সকল সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিট এ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ হতে এমবিবিএস/ বিডিএস কোর্সে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে।

 

২.০     প্রার্থীর যোগ্যতাঃ

২.১ আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কেবল মাত্র সরকার কর্তৃক বিদেশীদের সংরক্ষিত আসনের

      জন্য বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীগণ আবেদন করতে পারবেন।

 ২.২ বিজ্ঞান বিভাগসহ এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান দুটি পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৯.০০ পয়েন্ট হতে

      হবে।

 ২.৩ পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ সকল উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা দুটিতে

      মোট জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ পয়েন্ট  হতে হবে। তবে এককভাবে কোন পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫০ পয়েন্ট এর

      কম গ্রহনযোগ্য নয়।

 

২.৪ এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অবশ্যই Physics, Chemistry I Biology থাকতে হবে

     এবং জীব বিজ্ঞানে (Biology) নূন্যতম জিপিএ ৩.৫০ পয়েন্ট থাকতে হবে। 

 

২.৫ যে শিক্ষাবর্ষের জন্য মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ/ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে সেই

     ইংরেজি সাল বা তৎপূর্ববর্তী ইংরেজি সালে প্রার্থীকে এইচএসসি/ সমমান পাশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট

     আবেদনকারীকে তার এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষায় পাশের পূর্ববর্তী দুই ইংরেজী বৎসরের মধ্যে এসএসসি/

     সমমান পরীক্ষায় পাশ হতে হবে।

 

২.৬ “ও” লেভেল এর জন্য ০৩ (তিন) টি বিষয় Physics, Chemistry I Biology থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত পাঁচ বিষয় এবং অতিরিক্ত বিষয়ে GPA ২.০০ পয়েন্ট এর অতিরিক্ত প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে GPA নির্ধারণ করা হবে। তবে সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০ পয়েন্ট এর বেশী হবে না। “এ” লেভেল এর জন্য ০৩ (তিন) টি বিষয় Physics, Chemistry I Biology থাকতে হবে। কিন্তু জিপিএ নির্ধারণের জন্য সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত যেকোন ০৩ (তিন) টি বিষয় বিবেচনায় আনা হবে। অতিরিক্ত বিষয়ে জিপিএ ২.০০ এর অতিরিক্ত প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে GPA নির্ধারণ করা হবে। তবে সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০ পয়েন্ট এর বেশী হবে না। উক্ত সনদপত্র সরকারি/ বেসরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

৩.০.    ভর্তির জন্য প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াঃ

 ৩.১       এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। এসএসসি ও এইচএসসি তে প্রাপ্ত জিপিএ এবং ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরী করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। কোন শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/ বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি পরীক্ষায় সদ্য উত্তীর্ণদের সর্বমোট (Aggregated) নম্বর (এস এস সি/ সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জি পি এ এর ১৫ গুন + এইচ এস সি/ সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জি পি এ এর ২৫ গুন + ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর) এর ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরী করা হবে। তবে পূর্ববর্তী বৎসরের এইচ এস সি পাশ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বৎসরের সরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ/ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তিকৃত ছাত্র- ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭.৫ (সাত দশমিক পাঁচ) নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা তৈরী করা হবে।

 

৩.২       সরকারি ও বেসরকারি সকল মেডিকেল কলেজের জন্য একই সঙ্গে একই প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর সরকারি ও বেসরকারি সকল ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিটের জন্য একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইংরেজি মাধ্যমের “ও” এবং “এ” লেভেল পাশ করা ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ করতে হবে।

 

৩.৩       লিখিত ভর্তি পরীক্ষা ১০০ টি প্রশ্নের প্রতিটি ১ নম্বর করে মোট (এইচএসসি বা সমমান সিলেবাস অনুযায়ী) ১০০ (একশত) নম্বরের বিষয় ভিত্তিক বিভাজন পদার্থবিদ্যা=২০, রসায়নবিদ্যা=২৫, জীববিজ্ঞান=৩০, ইংরেজী=১৫ ওসাধারন জ্ঞানঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ=১০ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

 

৩.৪       লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।

৩.৫       লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর এর কম প্রাপ্তরা অকৃতকার্য বিবেচিত হবে।

৪.০       মেধা তালিকা ও প্রার্থী নির্বাচনঃ

৪.১        অনুচ্ছেদ ২.১ অনুযায়ী শুধুমাত্র ভর্তি (লিখিত) পরীক্ষায় কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জাতীয় মেধা তালিকা (বিশেষ কোটা যদি থাকে উল্লেখসহ) প্রকাশ করা হবে।

৪.২       সরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ/ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি ও পার্বত্য অঞ্চলের অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসন বাদে অবশিষ্ট আসনে জাতীয় মেধায় ৮০% এবং জেলা কোটায় (সংশ্লিষ্ট জেলার প্রার্থীদের মেধানুসারে) ২০% প্রার্থী নিবাচন করা হবে।

৪.৩       জাতীয় মেধা তলিকা প্রকাশের পরপরই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য একটি সিডিউল প্রকাশ করা হবে। স্ব-স্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উক্ত সিডিউল অনুযায়ী একাধিক জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভর্তির জন্য ব্যাপক প্রচারণা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তি ফরমের মূল্য হিসেবে সর্বোচ্চ ১০০০/- (এক হাজার) টাকা গ্রহণ করতে পারবে।

৪.৪        বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রাপ্ত আবেদনকারীদের জাতীয় মেধা তালিকার ক্রম অনুযায়ী বিন্যাস করে একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করবে এবং সিডিউল অনুসরন করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। কোন ক্রমেই মেধাক্রমের ব্যতিক্রম করা যাবেনা।

৪.৫       কলেজ কর্তৃপক্ষ সিডিউল অনুযায়ী ভর্তির অগ্রগতি তালিকাসহ পরিচালক (চিশিজ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা-কে দফায় দফায় তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করবেন।

৫.০ সার্টিফিকেট সমূহ নিরক্ষণঃ

ভর্তির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীদের এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও  মার্কশীট সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড দ্বারা সত্যতা যাচাই করবেন। অনুচ্ছেদ ১০ এর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় সত্যতা যাচাই করা না হয়ে থাকলে বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার সার্টিফিকেট এবং মার্কস সার্টিফিকেট সমূহ বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে যাচাই এর ব্যবস্থা কলেজ কর্তৃপক্ষকে গ্রহন করতে হবে।

৬.০       মাইগ্রেশন বা কলেজ বদলী (সরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজের জন্য প্রযোজ্য)ঃ

৬.১       ভর্তির জন্য নির্ধারিত তারিখ শেষে শূন্য আসনসমূহের বিপরীতে ভর্তিকৃত ছাত্র/ ছাত্রীদের আবেদন, মেধাস্থান, কলেজ   পছন্দ অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের (অটোমাইগ্রেশন) সুযোগ দেয়া হবে। মাইগ্রেশন শেষে প্রাপ্ত শূন্য আসনসমূহ অপেক্ষমান তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুসারে পূরণ করা হবে।

৬.২       অনুচ্ছেদ ৬ (১) এ বর্ণিত নিয়ম ব্যতিত অন্যকোন ভাবে এক মেডিকেল কলেজ হতে অন্য মেডিকেল কলেজে বদলী হওয়া বা করা যাবে না।

 

৭.০     কারিকুলাম ও ইন্টার্নশীপঃ

এমবিবিএস/ বিডিএস কোর্সের ছাত্র/ ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমএন্ডডিসি)   অনুমোদিত চলতি কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। কোর্স শেষে স্ব স্ব মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে এক বছর ইন্টার্নশীপ সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।

৮.০       নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ, নিরীক্ষণ, ফলাফল চূরান্তকরণ ও প্রকাশ  ৬.১ এ বর্ণিত মাইগ্রেশন কার্যক্রমের দায়িত্ব পরিচালক (চিশিজ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা এর উপর ন্যস্ত থাকবে।

৯.০       সংরক্ষিত আসন ও এ আসনের জন্য প্রযোজ্য সনদপত্রঃ

৯.১       মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এবং সন্তানদের সন্তানাদির জন্য মোট আসনের ২% আসন সংরক্ষিত থাকবে।

৯.২       এ ছাড়া পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ উপজাতীয় এবং তিনটি পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় কোটাভুক্ত আসনের জন্য (৯+৩)=১২ (বার) টি, এবং পার্বত্য জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলার পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী (উপজাতীয়) প্রার্থীদের জন্য ০৮ (আট) টি সহ সর্বমোট ২০ (বিশ) টি আসন সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পার্বত্য জেলার ১২ টি আসনের মধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রতিটি হতে ০৩ (তিন) টি পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী (উপজাতীয়) এবং ০১ (এক) টি অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি ডেন্টাল কলেজের জন্য ০৫ টি আসন উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই আসনের মধ্যে পার্বত্য ০৩ টি জেলার জন্য ০৩টি এবং পার্বত্য জেলার বাহিরে অন্যান্য উপজাতীয়দের জন্য ০২টি আসন সংরক্ষিত থাকবে।

৯.৩       বেসরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ/ইউনিট এর  ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং সন্তানদের সন্তানাদির জন্য সংরক্ষিত ২% আসন স্ব-স্ব কলেজ/ইউনিট এর জন্য অনুমোদিত আসনের মধ্যে সীমিত থাকবে।

৯.৪       পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য জেলার ন্যায় সার্কেল চীফ এবং জেলা প্রশাসকের সনদ ও অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসকের সনদ এবং অন্যান্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্র প্রধান ও  জেলা প্রশাসকের সনদপত্র দাখিল করতে হবে।

৯.৫       মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের প্রমান স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী/ প্রতিমন্ত্রী স্বাক্ষরিত সনদ বা ১৯৯৭-২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরিত সনদের সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করতে হবে।

৯.৬       বেসরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজ/ ডেন্টাল ইউনিটসমূহের জন্য ৫% আসন অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র/ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এই আসনের ছাত্র/ ছাত্রীদের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন ভাতাদি ও সেশন চার্জের অতিরিক্ত কোন প্রকার ফি গ্রহন করতে পারবে না। 

৯.৭       অসচ্ছল মেধবী ছাত্র/ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বাছাই প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে ২৩/১২/২০১২ খ্রিঃ তারিখের স্মারক নং স্বাপকম/চিশিজ/গমেছাঃ/বেসমক ভর্তি-০২/২০১২/৮৬৮ অনুযায়ী ঝযড়ৎঃ খরংঃ তৈরী করে স্ব-স্ব কলেজের গভর্ণিং বডির মাধ্যমে করতে হবে।

১০.০   বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীদের আবেদন পদ্ধতিঃ

১০.১      দেশী বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম একই সাথে শুরুর স্বার্থে বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেশীয়দের পূর্বেই জারী হতে হবে। বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীদের আবেদনপত্র, এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান সার্টিফিকেট এবং মার্কস সার্টিফিকেট নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়ন সহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনক্রমে সমতাকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

১০.২     বেসরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীগণ নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট ও মার্কসীট প্রত্যয়ন করে সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক প্রার্থী তার পছন্দের মেডিকেল কলেজের নাম উল্লেখপূর্বক বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে অথবা বাংলাদেশে অবস্থিত ঐ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন প্রেরণ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকা প্রস্তুত করে আবেদনগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এবং একটি তালিকা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। আবেদন পত্রসমূহ পরীক্ষা নিরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সমতাকরণসহ ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের কাগজপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করবে এবং একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সামগ্রিক তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রী  ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এবং ব্যাপক প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১০.৩     বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোন বাংলাদেশী ছাত্র/ ছাত্রী বিদেশী নাগরিকত্ব নিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির আবেদন করলে তাকে এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র দাখিল করতে হবে এবং যে প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন সে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র/ প্রশংসাপত্র দাখিল করতে হবে।

১০.৪      কুটনৈতিক কারণে সার্কভুক্ত কোন দেশের জন্য সংরক্ষিত কোটার শূন্য আসনে অন্য কোন দেশের ছাত্র/ ছাত্রী  ভর্তি করা যাবে না। তবে মন্ত্রণালয় নন-সার্ক কোটার শূন্য আসনে স্থানীয় প্রাথীদের মেধায় ক্রমানুসারে ভর্তির অনুমোদন দিতে পারবেন।

১০.৫     বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীদের ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি মেডিকেল কলেজ/ ডেন্টাল কলেজ/ ইউনিট এর জন্য জিপিএ ৮.০০ (আট) এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ ডেন্টাল কলেজ/ ইউনিট জন্য জিপিএ ৭.০০ (সাত) নির্ধারণ করে মেধা তালিকা তৈরী করা হবে।

১১.০      ভ‚ল বা মিথ্যা তথ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যঃ

কলেজে ভর্তির পূর্বে বা পরে দেশী বা বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীর কারো কোন তথ্য ( যা ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে)  মিথ্যা বা ভ‚ল প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তার ভর্তি বাতিল করা সহ আইন অনুয়ায়ী  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানেই অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত দেশী/বিদেশী  ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না।

 

১২.০   বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীদের আসন সংরক্ষনঃ

১২.১      সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে বিদেশী ছাত্র/ ছাত্রীদের জন্য সার্ক কোটায় ১১২ টি (এমবিবিএস-৯৯ টি ও বিডিএস- ১৩টি) আসন এবং নন-সার্ক কোটায় ১০৯ টি (এমবিবিএস-৮২ টি ও বিডিএস- ২৭ টি) আসন সংরক্ষিত থাকবে।

১২.২     বিদেশী  ছাত্র/ ছাত্রী ভর্তির যোগ্য বেসরকারী কলেজ সমুহে কলেজের মোট আসনের সর্বোচ্চ ৫০% বিদেশী  ছাত্র / ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বিদেশী ছাত্র/ছাত্রী পাওয়া না গেলে দেশী  ছাত্র/ছাত্রী দ্বারা এ আসন পুরণ করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশী ছাত্র/ছাত্রীদের ভর্তির  ক্ষেত্রে যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা জড়িত তা প্রযোজ্য হবে। কোন অবস্থায় বিদেশী রেটে ফি সমুহ আদায় করা যাবে না।

 

১৩.০   ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনাঃ

ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএমএন্ডডিসি অনুমোদিত একটি কমিটি থাকবে। ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

১৪.০      নীতমিালার কোন শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

১৫.০   রহতিকরণ ও হফোজতঃ

এই নীতিমালা জারী হওয়ার তারিখ হতে “মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০১৭” বাতিল বলে গণ্য হবে এবং এই নীতিমালার ধারা ও উপধারার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া স্বাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম এই নীতিমালার অধীন নিষ্পত্তি হবে।

 

(ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার)
অতিরিক্ত সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা)
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্মারক নং-৫৯.০০.০০০০.১৪০.১৯.২০৪.২০১৭-৪১৪                                                                                                        তারিখঃ ৩০/১০/২০১৯ খ্রিঃ

অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে প্রেরণ করা হলোঃ

 ০১।  ভাইস-চ্যান্সেলর, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সকল)।
০২।  মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা।
০৩।  সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, বিজয়নগর, ঢাকা।
০৪।  ডীন, চিকিৎসা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
০৫।  যুগ্ম-সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
০৬।  মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
০৭।  উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-২), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
০৮।  সচিব মহোদয়ের একান্ত সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
০৯।  পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা।
১০।  অধ্যক্ষ, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ (সকল)।
১১।  অধ্যক্ষ, ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিট/ইনস্টিটিউট (সকল)।
১২।  সিস্টেম এনালিস্ট, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশের জন্য)।
১৩।  অফিস কপি/মাস্টার কপি।

 

(মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল)
উপসচিব
ফোন-৯৫৪০৭৩০